প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
১৬ বছর পর সাইবার বুলিং নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী প্রভা
হৃদয় খান বাদশাহ্ ||
বিনোদন ডেস্ক:দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, কটূক্তি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি অনলাইন হয়রানির মানসিক প্রভাব, ভিকটিম ব্লেমিং সংস্কৃতি এবং অপরাধীদের প্রতি সামাজিক উদাসীনতা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।ভিডিও বার্তায় প্রভা বলেন, অনেক দিন ধরেই তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। কারণ, এসব নিয়ে কথা বলেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না। তবে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তিনি মনে করেছেন, কিছু বিষয়ে নীরব থাকা উচিত নয়।সাইবার বুলিংকারীদের মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রভা বলেন, বিভিন্ন গবেষণা ও মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনিরাপত্তাবোধ, আত্মতুষ্টির অভাব কিংবা হতাশা মানুষকে অন্যকে আক্রমণাত্মকভাবে বিচার করতে এবং অপমানজনক মন্তব্য করতে উৎসাহিত করে।তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শিল্পী, সেলিব্রিটি বা জনপরিচিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে কটূক্তি, বিদ্রূপ ও মৌখিক নির্যাতন করে থাকেন। তার মতে, এসব আচরণের পেছনে ব্যক্তিগত অসন্তোষ ও মানসিক অস্থিরতা কাজ করতে পারে।নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে প্রভা বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি নিয়মিত সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই তাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে আনন্দ পান। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেসব ব্যক্তি অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে বা সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য ও কনটেন্ট প্রকাশ করে, তাদের বিরুদ্ধে সমাজ একইভাবে সোচ্চার হয় না কেন।অভিনেত্রীর ভাষ্য, ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে সমালোচনা ও অপমানের পরিবর্তে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। যারা অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য বা গোপনীয়তা সম্মতি ছাড়া প্রকাশ করে, তারা আইনগত ও নৈতিকভাবে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত।প্রভা মনে করেন, অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার যে সংস্কৃতি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তা পরিবর্তন হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানান।তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সাইবার বুলিং ও ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক: হৃদয় খান বাদশাহ্
বার্তা সম্পাদক: এম.ডি রায়হান
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক হৃদয়ে বাংলাদেশ