ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক হৃদয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আরও ১৪ মিলিয়ন ইউরো দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অতিরিক্ত ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব নবায়নের মাধ্যমে এ অর্থায়ন করা হবে, যা মানবিক সহায়তা, সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইইউ ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই অর্থায়নের আওতায় কক্সবাজারে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দা উপকৃত হবেন। সহায়তার অংশ হিসেবে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হবে।বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাই জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জীবিকা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতিতেও ভূমিকা রাখবে।বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন ইইউর ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অর্থায়ন তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ ধরে রাখতে সহায়ক হবে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব শরণার্থী দিবস (২০ জুন) উপলক্ষে এই অতিরিক্ত সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, শোষণ ও মানব পাচারের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।এ ছাড়া এলপিজির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা কমবে, ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রায় ৭১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও উদার সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ইইউ ও ইউএনএইচসিআর।

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আরও ১৪ মিলিয়ন ইউরো দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
সর্বশেষ