দেশে হামের প্রকোষ্ঠে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাকে সরকারের চরম ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম সংকটের এই দায় সম্পূর্ণভাবে বর্তমান সরকারকে নিতে হবে এবং অনতিবিলম্বে দেশে ‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’ বা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিএমএ মিলনায়তনে এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশে এ মুহূর্তে খাদ্য ও জ্বালানিসহ অনেকগুলো সংকট চলছে, যা নিরসন করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে। এর মধ্যে সারা দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং ইতিমধ্যেই চার শতাধিক শিশু হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি হাসপাতালকে শুধু হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি। জাতীয় সংসদে এই বিষয়ে কথা বলেছেন উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সরকার সব কিছুতে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের হাত পরিষ্কার করতে চায়। যদি অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো অব্যবস্থাপনা থেকেও থাকে, তবে তাদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা হোক, এনসিপি তাতে সহযোগিতা করবে; কিন্তু এর-ওর ঘাড়ে দায় চাপিয়ে সরকার নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বেইমানি ও প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের পক্ষে নির্বাচনে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, সরকার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে সেই সংস্কারকে অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যিক চুক্তির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, এই চুক্তিটি নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো চুক্তি সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার ভিত্তিতে এবং জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে সম্পাদন করা উচিত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, একদল আগে ভারতের মুখাপেক্ষী ছিল, এখন নতুন সরকার অন্য কোনো পরাশক্তির মুখাপেক্ষী হয়ে দেশ পরিচালনা করবে—এটা দেশের জনগণ মেনে নেবে না। ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে পৃথিবীর অন্যতম রক্তাক্ত সীমান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সীমান্তে গুলি করে হাজারের ওপর নিরীহ বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী যেভাবে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লংমার্চ করেছিলেন, ঠিক একইভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা রক্ষায় প্রয়োজনে ‘সীমান্ত লংমার্চ’ ঘোষণা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা।