ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দৈনিক হৃদয়ে বাংলাদেশ

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রুমিন ফারহানা

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রুমিন ফারহানা



প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রুমিন ফারহানা
ছবি: সংগৃহীত

 ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে গতানুগতিক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি মনে করেন, বাজেটের আকার বড় হলেও এতে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা বা জনআকাঙ্ক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে বাজেট অধিবেশন শেষে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা—এই তিনটি খাত দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দ প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তার মতে, শিক্ষা খাতে জিডিপির তুলনায় বরাদ্দ এখনও কম এবং স্বাস্থ্য খাতেও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন কঠিন হতে পারে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, এ খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেখানো হলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তামূলক কর্মসূচিতে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে সীমিত থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও দেশের বাস্তব চাহিদার তুলনায় এগুলোর পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ সেই অনুপাতে বাড়েনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈদেশিক ঋণ প্রসঙ্গে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকার বর্তমানে ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়ায় তুলনামূলক উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এ অবস্থায় উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন তিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সব মিলিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট আগের ধারারই একটি সম্প্রসারিত রূপ এবং এতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার তুলনায় নতুনত্ব কম রয়েছে।

বিষয় : বিএনপি রাজনীতি অর্থনীতি বাণিজ্য ঢাকা বিভাগ

দৈনিক হৃদয়ে বাংলাদেশ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রুমিন ফারহানা

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

 ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে গতানুগতিক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি মনে করেন, বাজেটের আকার বড় হলেও এতে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা বা জনআকাঙ্ক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে বাজেট অধিবেশন শেষে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা—এই তিনটি খাত দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দ প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তার মতে, শিক্ষা খাতে জিডিপির তুলনায় বরাদ্দ এখনও কম এবং স্বাস্থ্য খাতেও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন কঠিন হতে পারে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, এ খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেখানো হলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তামূলক কর্মসূচিতে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে সীমিত থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও দেশের বাস্তব চাহিদার তুলনায় এগুলোর পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ সেই অনুপাতে বাড়েনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈদেশিক ঋণ প্রসঙ্গে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকার বর্তমানে ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়ায় তুলনামূলক উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এ অবস্থায় উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন তিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সব মিলিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট আগের ধারারই একটি সম্প্রসারিত রূপ এবং এতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার তুলনায় নতুনত্ব কম রয়েছে।


দৈনিক হৃদয়ে বাংলাদেশ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক: হৃদয় খান বাদশাহ্
বার্তা সম্পাদক : এম.ডি রায়হান
এই সাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। Crafted with ❤️ by The Daily Hridoye Bangladesh 2026
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক হৃদয়ে বাংলাদেশ
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রুমিন ফারহানা
0:00 0:00
1.0x
সর্বশেষ