সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মক কনটেন্টের মাধ্যমে সমসাময়িক নানা বিষয় ফুটিয়ে তুলে ব্যাপক জনপ্রিয় ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ (Switzerland Probashi) পেজ। তবে এবার কেবল বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার খোরাক জোগাল ফেসবুকের এই জনপ্রিয় মাধ্যমটি। পেজটির ফলোয়ারদের মধ্য থেকে একজন গবেষক ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’র কনটেন্ট তৈরিতে ভাষার চাতুর্য ও ব্যঙ্গাত্মক কৌশল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।
গবেষণাপত্রটিতে প্রখ্যাত ভাষাবিদ এইচ. পি. গ্রাইসের (H. P. Grice) বিখ্যাত ‘ফোর ম্যাক্সিমস’ বা চার নীতি— কোয়ালিটি (Quality), কোয়ান্টিটি (Quantity), রিলেশন (Relation) এবং ম্যানার (Manner)—কীভাবে এই পেজের ব্যঙ্গাত্মক কৌশলে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ভাষাবিজ্ঞানের আলোয় ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’
সাধারণত মানুষের স্বাভাবিক কথোপকথন ও যোগাযোগের নিয়ম ব্যাখ্যা করতে ভাষাবিজ্ঞানে গ্রাইসের এই চার নীতি ব্যবহার করা হয়। তবে গবেষণায় দেখানো হয়েছে, কীভাবে ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ পেজটি সচেতনভাবে এই নিয়মগুলো ভেঙে চমৎকার হিউমার বা রসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করে।
আরও পড়ুনআরও পড়ুন‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ নামক স্যাটায়ার পেজের নেপথ্যের ‘প্রবাসী’ কারা?
সামাজিক মাধ্যমে নতুন দিগন্ত
কোনো ফেসবুক পেজের কনটেন্ট নিয়ে হুবহু ভাষাবিজ্ঞান বা প্র্যাগমেটিক্সের (Pragmatics) এমন তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তা আন্তর্জাতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক জার্নালে গবেষণাপত্র হিসেবে প্রকাশ পাওয়া বেশ বিরল। গবেষকের এই কাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরিতে লিন্ডুইস্টিক বা ভাষাগত কৌশলের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।
এই অর্জন প্রসঙ্গে ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ পেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ফলোয়ারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, নিজেদের তৈরি কনটেন্ট যখন কারোর গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে, তা সত্যিই দারুণ অনুপ্রেরণার। ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।