দেশের সর্বকনিষ্ঠ সংগীত পরিচালক ই এস আভির, বাবার পথ ধরে চলচ্চিত্রের গানে নতুন স্বপ্ন
চলচ্চিত্রের সংগীতাঙ্গনে নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে আলোচনায় আসছেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে পরিচিত ই এস আভির শিকদার। বাবার হাত ধরে সংগীতের ভুবনে পথচলা শুরু হলেও নিজের মেধা, নিষ্ঠা ও কাজের মধ্য দিয়ে স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে চান তরুণ এই সংগীত পরিচালক।সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারের একটি স্টুডিওতে রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘স্বপ্নের নায়িকা’-র একটি গানের। ই এস আভিরের সংগীতায়োজনে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সময়ের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী ও ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত রাজীব এবং পূজা। চলচ্চিত্রটির সংগীত নিয়ে ইতোমধ্যেই সংগীত প্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই। প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ এ আর বাবলুর হাত ধরে সংগীত জীবনে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু ই এস আভিরের। বাবার কাছ থেকেও পেয়েছেন সংগীতের গভীর শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। তাঁর বাবা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বরেণ্য সংগীত পরিচালক আনোয়ার শিকদার টিটন। বাবার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার উত্তরাধিকারকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে চান আভির।ই এস আভির ইতোমধ্যে এম কে জামান পরিচালিত ‘তুমি তুমি সারাক্ষণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ছবিটির গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন সময়ের ব্যস্ত কণ্ঠশিল্পী মিতা মল্লিক ও মাসুম।এরই ধারাবাহিকতায় তিনি যুক্ত হয়েছেন আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রের সংগীতের কাজে। জামান মাস্টার পরিচালিত ‘চোখের আড়ালে’ চলচ্চিত্রেও সংগীত পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নির্মাতা মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘ওয়েটিং’-এর সবগুলো গানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন ই এস আভির। এছাড়া আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রের সংগীত নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।নিজের পথচলা নিয়ে ই এস আভির বলেন, “আমার জীবনের অন্যতম বড় পাওয়া হলো এফ আই মানিক স্যারের চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পাওয়া। এই চলচ্চিত্রের গানগুলোর সংগীত পরিচালনার কাজ আমার বাবার করার কথা ছিল। কিন্তু বাবা নিজে কাজগুলো না করে আমাকে করার সুযোগ করে দিয়েছেন। একজন সন্তানের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে! আমি আমার বাবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। বাবা তাঁর নিজের কাজ আমাকে দিয়ে যে আস্থা ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা আমার জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা।”তিনি আরও বলেন, “আমি আমার বাবার দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে চাই। সংগীত আমার ভালোবাসা, আর চলচ্চিত্রের গান নিয়েই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখি। বাবার আশীর্বাদ ও দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসা পেলে নিয়মিতভাবে সংগীতের ভুবনে কাজ করে যেতে চাই।”তরুণ এই সংগীত পরিচালকের স্বপ্ন শুধু কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করা নয়; বরং নিজের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতকে সমৃদ্ধ করা। পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজের প্রজন্মের ভাবনা ও আধুনিক সংগীতের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন কিছু উপহার দিতে চান তিনি।চলচ্চিত্রের পর্দায় গল্প যেমন দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়, তেমনি সেই গল্পের আবেগকে আরও গভীর করে তোলে গান। আর সেই গানের জগতে বাবার সাধনার সুরের পথ ধরে নিজের স্বপ্নের ঠিকানা খুঁজছেন ই এস আভির শিকদার। তাঁর এই পথচলা কতটা দীর্ঘ ও সাফল্যময় হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।