রাজনীতির মঞ্চে নেতাকর্মীদের ঘিরে কর্মচারী, সহকারী কিংবা প্রটোকলের দৃশ্যই সাধারণত বেশি দেখা যায়। কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন “আমজনতার দল”-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারেক রহমান।
তিনি কোনো কর্মচারী বা বিক্রয়কর্মী নিয়োগ না দিয়ে নিজেই ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আম বিক্রি করছেন। এমনকি ঈদের মাত্র একদিন আগেও তাকে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে আম বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সাধারণ মানুষের মতোই তিনি নিজ হাতে আম সাজিয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, নিজ হাতে আম বেছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ছে। অনেকেই এটিকে অহংকারহীনতা, পরিশ্রম ও আত্মসম্মানের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে মোঃ তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দৈনিক হৃদয়ে বাংলাদেশ কে বলেন,
“জুলাই নিয়ে ব্যবসা করার চেয়ে প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে আম বিক্রি করা অনেক ভালো, সৎ এবং সম্মানের কাজ। মানুষের আবেগ কিংবা পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেয়ে নিজের পরিশ্রমে জীবিকা অর্জন করাই উত্তম।”
তিনি আরও বলেন,
“ইসলামে হালাল ব্যবসাকে অত্যন্ত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন—
‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা নবী, সিদ্দীক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’
তাই আমি মনে করি, সৎভাবে ব্যবসা করা লজ্জার নয়; বরং এটি গর্বের বিষয়।”
তার এই বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, বর্তমান সময়ে যখন অনেকেই পরিচয় ও ক্ষমতার দাপট দেখাতে ব্যস্ত, তখন একজন রাজনৈতিক নেতার সাধারণ মানুষের মতো পরিশ্রম করে ব্যবসা করা সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
একজন ক্রেতা বলেন,
“ঈদের আগের দিনেও একজন রাজনৈতিক নেতাকে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে আম বিক্রি করতে দেখা সত্যিই ব্যতিক্রম। এতে বোঝা যায়, তিনি শ্রমকে ছোট মনে করেন না।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সমাজে সততা, পরিশ্রম এবং আত্মসম্মানের যে মূল্যবোধ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, মোঃ তারেক রহমানের এই উদ্যোগ সেটিকেই নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।