বিনোদন প্রতিবেদক:
বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দার আড়ালে যেসব মানুষ নিরলস পরিশ্রম করে একটি সিনেমাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন, তাদের অন্যতম একজন চলচ্চিত্র সম্পাদক এ রহিম। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আধুনিক সম্পাদনা কৌশলের মাধ্যমে তিনি ঢালিউডে তৈরি করেছেন নিজের শক্ত অবস্থান। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত সম্পাদনা প্রতিষ্ঠান ‘ফিল্ম সলিউশন’ চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম।
চলচ্চিত্রে এ রহিমের পথচলা শুরু হয় তার বড় ভাই, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সম্পাদক প্রয়াত শহিদুল্লাহ শহীদ-এর হাত ধরে। পরবর্তীতে তাকে দেশের খ্যাতিমান সম্পাদক ওস্তাদ চিশতী জামাল-এর কাছে কাজ শেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। সেখানে প্রধান সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে করতেই তিনি চলচ্চিত্র সম্পাদনার নানা সূক্ষ্ম দিক আয়ত্ত করেন এবং একসময় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন দক্ষ সম্পাদক হিসেবে।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি কাজ করেছেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘বোমা হামলা’, ‘উল্টা পাল্টা ৬৯’; শাহাদাত হোসেন লিটনের ‘মিয়া বাড়ির চাকর’, ‘কাবিননামা’, ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা’, ‘টাকার চেয়ে প্রেম বড়’, ‘লালু কসাই’, ‘জিদ্দি মামা’; কাজী হায়াতের ‘কাবলিওয়ালা’; শাহীন সুমনের ‘হট লাইন’, ‘দুই নাম্বার’; বজলুর রাশেদ চৌধুরীর ‘বধূ তুমি কার’।
এছাড়াও পি এ কাজল পরিচালিত ‘এক টাকার বউ’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘বড়লোকের জামাই’, ‘ক্ষমতার গরম’, ‘যমদূত’, ‘একাই একশ’; শাহাদাত হোসেন বাদশা পরিচালিত ‘গুন্ডা রাজ’, ‘স্ত্রী কেন শত্রু’; শাহ মোহাম্মদ সংগ্রামের ‘বলবো কথা বাসর ঘরে’; অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘নজর’, ‘বাবা ঠাকুর’-সহ আরও বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
পরবর্তীতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব সম্পাদনা প্রতিষ্ঠান ‘ফিল্ম সলিউশন’। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদনা করেছেন ফোরকান আহমেদ পরিচালিত ‘এই জীবনে আছো তুমি’, পি এ কাজলের ‘চোখের দেখা’, উত্তম আকাশের ‘ঢাকা টু বোম্বাই’, ‘রাজা ৪২০’, ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া ’, ‘এক জবানের জমিদার’, ‘প্রেম চোর’, ‘বয়ফ্রেন্ড’-সহ একাধিক আলোচিত সিনেমা।
এছাড়াও আব্দুল মান্নান গাজীপুরীর ‘মন বসেছে পড়ার টেবিলে’, এবং মিজানুর রহমান মিজানের ‘রাগী’, ‘তোলপাড়’, চলচ্চিত্রেও তার সম্পাদনার ছোঁয়া দর্শকদের নজর কেড়েছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে গতি, নাটকীয়তা ও আবেগের ভারসাম্য তৈরিতে এ রহিমের সম্পাদনা বিশেষ ভূমিকা রাখে। তার কাজের বৈচিত্র, দৃশ্য বিন্যাসের দক্ষতা এবং সময়োপযোগী সম্পাদনা কৌশল তাকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের একজন নির্ভরযোগ্য সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নীরবে কাজ করলেও বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমার পেছনে রয়েছে এ রহিমের সৃজনশীল সম্পাদনার ছাপ। চলচ্চিত্রের এই দক্ষ কারিগর এখনও কাজ করে চলেছেন নতুন প্রজন্মের সিনেমাকে আরও আধুনিক ও দর্শকপ্রিয় করে তুলতে।