বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রভাবশালী ও দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ, সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন এক সুপরিচিত নাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্ব, আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার সক্রিয় নেতৃত্ব তাকে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।দেশীয় রাজনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হলো, যা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে।