জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পপির মা মরিয়ম বেগম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর নিকেতন-গুলশানের নিজ বাসায় হঠাৎ স্ট্রোক করলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত ১টা ৪৭ মিনিটে তাঁকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকা কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রাত ১২টার দিকে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই রাত ১টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মায়ের মৃত্যুতে শোকাহত সন্তানেরা, পপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা
মরিয়ম বেগমের মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর অন্য ছেলেমেয়েরা। মায়ের মৃত্যুসংবাদে শোকাহত হয়ে তাঁরা আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি জানান।
একপর্যায়ে খেয়ালী তাঁর বোন চিত্রনায়িকা পপির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে সে সময় পপিকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতালে উপস্থিত চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক বিপ্লব শরীফ এবং খেয়ালী পপির স্বামী আদনান কামালকে ফোন করে মরিয়ম বেগমের মৃত্যুসংবাদ জানান।
মৃত্যুসংবাদ শোনার পর আদনান কামাল কোনো উত্তর না দিয়েই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরে ফোনটি বন্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরে ফোন করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকায় প্রথম জানাজা, খুলনায় দাফনের প্রস্তুতি
পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকায় বসবাসরত আত্মীয়স্বজনদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে মরিয়ম বেগমের প্রথম জানাজা রাজধানীর নিকেতন-গুলশান এলাকায় তাঁর দীর্ঘদিনের আবাসস্থলের কাছে বাদ ফজর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম জানাজা শেষে বিশেষ হিমায়িত মরদেহবাহী গাড়িতে করে তাঁর মরদেহ জন্মস্থান খুলনার গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ও শোক
চিত্রনায়িকা পপির মা মরিয়ম বেগমের মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর অন্য ছেলেমেয়েরা। এ ছাড়া চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক বিপ্লব শরীফ, চলচ্চিত্র পরিচালক ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার শিকদার টিটন এবং অভিনেতা হৃদয় খান বাদশাহ্। মরিয়ম বেগমের ইন্তেকালে তাঁরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মহান আল্লাহ তাআলা মরহুমাকে ক্ষমা করুন, তাঁর রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় শূন্যতা সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন।